গল্প ৮৬

​Dimension Origins: Part 2

লেখা:ফ্রাংকেনস্টাইনের কুৎসিত দানব (Raihan Masud Bipu)

১.

“প্রচন্ড সাদা একটা আলো।ভয়াবহ চোখ ধাধানো একটা আলো। আলোটা এতই  শক্তিশালী যে রুমের আশেপাশে থাকা স্টিলের আলমারি,খাট গলিয়ে দিচ্ছে।

রুমের দেয়ালগুলো কাঁপছে। ভয়ংকর কাঁপুনি। ভূমিকম্প ভেবে তিনতলা বিল্ডিং এর নিচের  তলার লোকজন বাইরে দৌড়ে গেছে। বাইরের রাস্তা লোকজনের চিৎকার আর হুটোপুটির শব্দ।

ওপাশের রুমটা বারান্দা সহ ধ্বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেই রুমের ধ্বসে পড়া মেঝে থেকে বের হওয়া রডে আটকে আছে একটা ছিন্নভিন্ন লাশ। একটা পুরুষের লাশ।লাশের চোখটা প্রচন্ড দুঃখ নিয়ে চেয়ে আছে নিষ্পলক,চেয়ে আছে প্রথম রুমে থাকা দোলনাটার উপর। যেই দোলনায় থাকা কারো চোখ থেকে এই ভয়াবহ আলোটা বের হচ্ছে,,,,,

দোলনার ঠিক সামনে দাঁড়ানো অত্যন্ত সুন্দরি, সোনালী চুলো ডাইনি লিন্ডা মাটি থেকে একহাত উপরে ভাসছে,তার মুখে একটা হাসি,,নীল চোখদুটো থেকে শীতল ঘৃণা ঠিকরে বের হচ্ছে।দুই হাত তার রক্তাক্ত,,একহাতে ধরা ওপাশের রুমে শুইয়ে থাকা ছিন্নভিন্ন দেহের পুরুষটার হৃদপিন্ড।প্রচন্ড চাপে,হৃদপিন্ডটা চুইয়ে রক্ত পড়ছে,,,

হঠাৎ দোলনায় থাকা উজ্জ্বল সাদা আলোর অধিকারিণীর ছোট শরীরটা জুড়ে একটা অমানুষিক রাগ বয়ে উঠল। সাথে সাথে লিন্ডার মুখটা বিকৃত হয়ে উঠল,চোখে বিশুদ্ধ আতংক ফুটে উঠল,,,,

“প্লিজ না,,, না,,, না,,, নাআআআআআআআ!!!!!”

ছাদটা ধ্বসে পড়ল,,লিন্ডার শরীরটা থেতলে গেল,,, উজ্জ্বল আলোটা আরো উজ্জ্বল হয়ে গেল,,,,,,,,,”

কুরআন পড়ার শব্দে অনন্যা আহমেদের ঘুম ভাঙল।চোখ খোলার সাথে সাথে সাদা উজ্জ্বল আলোটা যেন ঠিকরে পড়ল। অনন্যা লাফ দিয়ে বিছানায় বসে পড়ল।তার সারা শরীরে ঘাম।

তার ১৪ বছর বয়স এখন। তার ধারণা এই ১৪ বছর প্রত্যেকটা রাতে সে এই স্বপ্নটা দেখেছে। এই ভয়ংকর রক্তাক্ত স্বপ্নটা।যত বড় হচ্ছে, স্বপ্নটা আরো স্পষ্ট হচ্ছে।আরো বুঝা যাচ্ছে।

পাশের রুম থেকে হাফেজ নবীন আংকেল কুরআন পড়ছেন। সেই সুর ভেসে আসছে এই রুমে। তারমানে ফজরের নামাজে উঠতে আজো দেরি হয়ে গেছে অনন্যার।

হাফেজ নবীন আংকেল অনন্যার পালক বাবা। কিন্তু নবীন আংকেল তাকে বলে দিয়েছে,”আমাকে তুমি আংকেল ডেকো,বাবা ডেকো না। তোমার বাবার মত আমি কখনওই হতে পারব না। তোমার বাবার মত কেউ নেই,অন্য কাউকে বাবা বলে নিজের বাবার স্মৃতিকে তুমি অপমান করবা না।”

নবীন আংকেল অনন্যাকে শুধু বলেছে তার বাবা অনেক মহৎ মানুষ ছিলেন। তার বাবা এই পৃথিবীটাকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচিয়েছেন।কিন্তু এর প্রতিদান হিসেবে তার কপালে জোটে স্ত্রীর লাশ এবং নিজের মৃত্যু,তার একমাত্র মেয়ে হয়ে যায় এতিম।

অনন্যার বাবা আহাদ আহমেদ সম্পর্কে হয়ত নবীন কিছুই বলতেন না অনন্যাকে। কিন্তু আস্তে আস্তে দেখলেন,সেই বাসায় ঘটা ঘটনার অলৌকিক ব্যাখ্যা না পেয়ে মানুষ আহাদ আহমেদকে একটা সাইকো খুনি বানিয়ে দিচ্ছে। অনন্যাকে বলছে খুনির মেয়ে।তখন বাধ্য হয়েই ছোট্ট অনন্যাকে তার বুঝাতে হয় একটা ভয়ংকর সত্য,একটা অন্ধকার সত্য,,,একটা ব্যাখ্যার অযোগ্য সত্য,,,,

আহাদ আহমেদ কিভাবে এই পৃথিবীতে আসে আজব একটা ক্ষমতা নিয়ে,,, বস্তুজগৎ কে নিয়ন্ত্রণের,মানুষের মস্তিষ্ক নিয়ন্ত্রণের,,, কিন্তু জীবনে খুব দুঃখে পড়ার আগে কখনো তার শক্তিটা আত্মপ্রকাশ করে নি।

প্রথম প্রথম ক্ষমতাটা পাওয়ার পর আহাদ উচ্ছৃঙ্খল হয়ে যায়। মানুষকে ঠকাতে থাকে। কিন্তু এভাবে ঠকাতে গিয়ে একটা নিরীহ লোকের আত্মহত্যার কারণ হয় সে। তারপর নিজেকে পালটে ফেলে। ঘুরে ঘুরে অসহায় মানুষের উপকার করতে থাকে সে,অত্যাচারী যারা,যাদের শাস্তি হয় না কখনো,, তাদেরকে শাস্তি দিতে থাকে।

কিন্তু সে নিজেই জানত না,তার এই শক্তির জন্য সে ভয়ংকর একটা ভবিষ্যতবাণীর অংশ। তাকে তার ক্ষমতা খাটিয়ে ৫ টা খুন করার অপেক্ষায় ছিল পিশাচপূজারীদের একটা দল। ভবিষ্যৎ বাণী ছিল,, “সৎ একজন লোক যখন ৫ টা খুন করবে,সে প্রস্তুত হবে একটা তন্ত্রের জন্য,তার হাতে বলি হবে আরেক সৎ মানুষ। সেই রক্তমন্ত্রে মুক্তি পাবে পাতালবন্দী পিশাচদেবতা হুইটজিলোপোক্টলি। পৃথিবীতে রাজত্ব করবে সে।”

রাগের মাথায় ৩ টা খুন করার পরই নিজেকে সামলে নেয় আহাদ।কিন্তু পিশাচপূজারীদের একজন,নাম লিন্ডা,বুদ্ধি খাটিয়ে,আহাদের পিছন থেকে এমন কাজ করে যে আহাদ বাধ্য হয় শেষ ২ টা খুন করতে। ৫ টা খুন সম্পূর্ণ হতেই তাকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হয়। তাকে এই ভবিষৎবাণী সম্পর্কে জানানো হয়।

আরো বলা হয় পিশাচদেবতাকে মুক্ত করতে তাকে নিজ হাতে বলি দিতে হবে স্বদেশী এক পুণ্যবান লোককে।কাকতালীয়ভাবে এই লোকটিই ছিল হাফেজ নবীন।

শেষ মুহুর্তে দেখা যায়,বলি দেবার যজ্ঞের জন্য যে মন্ত্র পড়তে হয় সে মন্ত্রের বাক্যগুলো নিজের ক্ষমতাবলে পালটে দেয় আহাদ।উল্টিয়ে দেয়।পিশাচদেবতা মুক্তি পাবার বদলে পাতালেই মরে যায়।

পিশাচপূজারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।কিন্তু তরুণী লিন্ডা প্রতিশোধ নিতে বদ্ধপরিকর হয়।সে বাংলাদেশ এ এসে খুন করে তাসনিমকে,অনন্যার বয়স তখন মাত্র কয়েকদিন।সামান্য একটু দেরিতে আহাদ পৌছে যায়,ফলে অনন্যাকে কিছু করতে পারে না লিন্ডা।

তাসনিমকে খুনের দায় আহাদের উপর চাপানো হয়। কয়েকদিন আগেই আহাদকে ৫ টা খুন করাতে তাসনিমের চরিত্র নিয়ে মিথ্যা কথা ছড়ায় লিন্ডা।আহাদ এর রাগের কথা প্রতিবেশীরা জানত। কিছু গুন্ডা তাসনিমকে মারধর করে এসে,কিন্তু প্রতিবেশীরা ভাবে আহাদ তাসনিমের পরকীয়ার কথা জেনে মারধর করেছে।

তাই যখন বদ্ধ দরজার ভিতরে এক ডাইনি তাসনিমকে খুন করে,স্বভাবতই ভূত প্রেত বিশ্বাস না করা মানুষ আহাদকে ধরিয়ে দেয় পুলিশের কাছে।

হাফেজ নবীন আর আহাদের ছোট ভাই অনেক কষ্টে আহাদের বিরুদ্ধের অভিযোগ ভিত্তিহীন প্রমাণ করে।আহাদ ছাড়া পায়।মেয়েকে নিয়ে অনেক দূর চলে যায়।

আহাদ নিজের ক্ষমতা ব্যবহার করা বন্ধ করে দেয়।সে বুঝতে পেরেছিল তার ক্ষমতা ব্যবহার শুরু করার সময় থেকেই পিশাচপূজারীরা তাকে ট্রেস করা শুরু করেছিল।লিন্ডালে ভয় পায় সে। লিন্ডা ছিল তার চেয়ে ১০ গুণ বেশি শক্তিশালী।

কিন্তু অনন্যার যখন এক বছর,চাকরির জন্য ইন্টার্ভিউ দিতে যায় আহাদ।আহাদ স্ত্রী খুনের মামলা থেকে অব্যাহতি পেলেও।দেশের মানুষ এর দৃঢ় বিশ্বাস ছিল,আহাদই খুনি।কিন্তু তার ছোটভাই টাকা দিয়ে তাকে ছাড়িয়েছে। ইন্টার্ভিউ এর লোকেরাও তাই ভেবেছিল,অপমান করেছিল আহাদ আর তার মৃত স্ত্রীকে। বাধ্য হয় আহাদ আবার তার ক্ষমতা প্রয়োগ করতে।লিন্ডা টের পেয়ে যায় আহাদের অবস্থান।

আহাদ বুঝতে পারে। তখনি ফোন দিয়ে হাফেজ নবীনকে অনুরোধ করে,,অনন্যাকে যেন নিজের মেয়ের মত মানুষ করে সে।

তারপর যে ঘটনাটাটা ঘটে, ১৪ বছরের অনন্যা এখনো সেটা প্রায় প্রতিরাতে স্বপ্ন দেখে। মাত্র এক বছর বয়সে,সে লিন্ডাকে খুন করেছিল,তার চোখে ভাসে,,, তার বাবার ছিন্নভিন্ন লাশের অসহায় আকুতিভরা দৃষ্টি,,,,,,

এই ১৪ বছরে অনন্যা যেখানেই গিয়েছে,মানুষ তাকে বারবার মনে করিয়ে দিয়েছে,,অনন্যা পরকীয়ার ফসল,আর সেজন্য তার বাবা তার মাকে খুন করে।

হাফেজ নবীন তখন অনন্যাকে বলে,,”যারা তোমাকে মিথ্যা অপবাদ দেয়,এই জীবনেও ভুগবে,,পরকালেও কষ্ট পাবে।”

হাফেজ নবীন,একবার না, বারবার অনন্যাকে তার বাবার কাহিনীটা শুনায়। অনন্যা বুঝতে পারে,সে আসলে এক নায়কের মেয়ে। কোনো খুনির না। যে নায়ক না থাকলে এতদিনে পৃথিবী অন্ধকার হয়ে যেত,পিশাচদেবতা রাজত্ব করত।সারা দুনিয়া আহাদকে খুনি,আর অনন্যার মাকে চরিত্রহীনা বললেও,অনন্যার বুকটা নিজের মা বাবার প্রতি সীমাহীন মমতায় ভরে ওঠে। চোখ ভরে পানি আসে,কখনওই দেখা হল না তাদের সাথে,,,,,,

ফজরের নামাজে উঠতে দেরি হয়ে গিয়েছে।এখনি নামাজটা পড়ে নেওয়া দরকার। অনন্যা তাড়াতাড়ি বিছানা থেকে নামে।

২.

ধানমন্ডি,ঢাকা। পুরনো একটা বিল্ডিং। বিল্ডিং এর সামনে একটা গলি অনেকদূর পর্যন্ত গিয়ে মেইন রোডে গিয়েছে। গলিটার আশেপাশের দেয়ালে পোড়ামাটির কাজ। ফুল,পাখি,,, অনেক আগের এক প্রায় ভুলে যাওয়া বিলাসিতা আর শিল্পের ভগ্নপ্রায় উদাহরণ।

মানুষ বলে পুরনো এই নির্জন বাড়িটায় নাকি ভূত আছে। কেউ থাকে না।রাতের আধারে বাতি জ্বলে না এখানে। কোনো মানুষ যে এখানে কখনো ছিল তার কোন অস্তিত্ব পাওয়া যায় না। তবে তারপরও রাতে যেন কাদের গুমড়ে ওঠা কান্নার শব্দ পাওয়া যায়,,,,,

রেজার বয়স ১৪ বছর। তার বন্ধুরা আজ বাজি ধরেছে তার সাথে,এই ভুতুড়ে বাড়িতে ঢুকতে হবে তার।সারারাত থাকতে হবে। রেজা মনে মনে ভয় পেলেও বন্ধুদের সামনে পার্ট নিতে রাজি হল। ছোটবেলা থেকে নিজের সাহসের মিথ্যামিথ্যি গল্প করেছে বন্ধুদের সাথে। এখন যদি ভয়ে ওদের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ না করে,সব গোমড় ফাঁস হয়ে যাবে। শর্ত হল,একটা ক্যামেরা নেবে সে প্রমাণ হিসেবে,,সারারাত কোন রুমে সেট করবে ওই বিল্ডিং এর।তারপর থাকবে। পরেরদিন সবাই দেখবে সেই ভিডিও।প্রমাণ হবে সে আসলেই ভূতের বাড়িতে রয়েছিল কিনা।

অন্ধগলির মধ্য দিয়ে রেজা চলেছে ধীর পায়ে,সেই বাড়িটার দিকে। কে বলে ঢাকা শব্দ দূষণের শহর?এখন রাত ১২ টা। রেজা খুব করে চাচ্ছে, প্লিজ কেউ একটু শব্দ করুক। পৃথিবীতে যে মানুষ আছে,সেটা সে বুঝুক।

বাড়িটার সামনে এসে সে দাড়ালো। অন্ধগলি অতিক্রম করে। বাড়িটা দেখে মধ্যযুগের ডাইনি প্রেতসাধকদের বাসা বলে মনে হয়।

রেজা গেইটের কাছে আসল।গেট খুলবে নাকি টপকাবে যখন ভাবছিল তখন আকাশ বাতাস কাপিয়ে এক অপার্থিব শব্দ আসল,,”এখানে কি করছ? বাঁচতে চাইলে পালাও,,এক্ষুণি পালাও।”

রেজার পেটের নাড়িভুঁড়ি মনে হয় আরো কয়েকটা প্যাচ খেল। পড়িমরি করে সে দৌড় দিল।কিন্তু একটা গলির বাক অতিক্রম করতেই একসঙ্গে প্যায় দশ বারোজনের আর্তনাদ শোনা গেল বাড়ির ভিতর থেকে,,,”কেউ এসেছ? প্লিজ বাঁচাও।প্লিজ,,,কোন ভূত নেই,, প্লিজ বাঁচাও,,,নয়ত মেরে ফেল আমাদের,,, আর সহ্য হয় না।”

রেজা ফিরল। হাপাচ্ছে। না তো,এতো ভয়ের শব্দ না। এটা তো কোন অপার্থিব শব্দ না। বাস্তব শব্দ,,খুবই বাস্তব।

রেজা আবার গেইটের কাছে গেল। একদম কাছে আসার আগে আশেপাশের দেয়ালের দিক তাকাল। এবার ভাল করে তাকাতে দেয়াল আর গেইটের মাঝখানে একটা একটা লালচে আলো ঝিক করতে দেখল। প্রথমে ভয় পেলেও হঠাৎ নিজের হাতের ভিডিও ক্যামেরার দিক তাকালো। হুবহু সেইম লাল আলো ঝিক করতে দেখল।

রেজা বুঝে গেল ওটা একটা লুকানো ভিডিও ক্যামেরা। আরো কাছে গেল।গেইটের কাছে দেয়ালটাতে হাত দিল।এই দেয়ালের অংশটা ফাপা।তার মানে একটা ভিডিও ক্যামেরা এখানে ছিল,ধরা পড়তেই কেউ সেটাকে ভিতরে টেনে নিয়েছে।

তারমানে প্রথমবার ভৌতিক গলায় তাড়িয়ে দেওয়া শব্দটাও কোন স্পিকার থেকে এসেছে। দেয়াল দুইটা বেশ খানিকটা হাতড়ে,আরও কিছু ফাপা স্থান পেল সে। ফাপা স্থান গুলো পাথরের না। ইস্পাতের পাতের।

রেজার ছোট মাথা বুঝে ফেলল,এই বাড়িতে আর যাই হোক,কোন ভূত নেই। তবে কিছু একটা ঘটছে এই বাড়িতে।

রেজা ফিরে চলল। দ্রুতপায়ে। কিন্তু বিল্ডিং এর ভিতরে কেউ তাকে দেখছিল। সে বুঝে গিয়েছিল রেজা পুলিশে খবর দেবে।

বাড়ির বাগানের নিচ থেকে একটা রোবটিক লেজার গান উঠল। অনেক উচু আর বড়। রেজার দ্রুত হাটা পথের দিক তাক করল। রেজার মাথা সই করল।

আলোর একটা ঝলক রেজার মাথায় আঘাত করল। রেজার সারা শরীর থলথলে অবশ হয়ে সে দুমড়ে মুচড়ে পড়ল রাস্তায়। চোখে অবিশ্বাস আর আতংক। মুখ হা। লালা ঝরছে। বেঁচে আছে সে,সব বুঝতে পারছে,,তবে নড়ার ক্ষমতাটা আর নেই।

বাড়ির ভিতরে এক অদ্ভুত দর্শন এপ্রন পরা লোক একটা রুমে ঢুকল। রুমের ভিতর ২০ টা খাচা, প্রত্যেকটা খাচায় মানুষ। ১২ জন জীবিত।  ৮ জন মৃত। মৃত মানুষদের শরীরগুলো বিকৃত,বোঝাই যাচ্ছে বিভিন্ন ধরণের এক্সপেরিমেন্ট চালানো হয়েছে এদের উপর। গা ভর্তি মোটা সিরিঞ্জের সুইয়ের দাগ,ফুটা স্থান ফুলো লাল হয়ে ফোলা। প্রচন্ড গন্ধ। কারো গা ভর্তি ইলেক্ট্রিক শকের দাগ। কারো সারা গা ভর্তি ফোড়া। লাল ফোস্কা,,, কারো চোখ নেই,প্রত্যেকজনের খাচা নিজেদের বমি,মল আর মূত্রে মাখামাখি। কারো গায়ে কোন কাপড় নেই।

এপ্রন পরা লোকটা বলল,,”কাউকে আসতে দেখলে মাইক্রোফোনে যখন আমি চলে যেতে বলি,তা শুনে এভানে তোরা কেন চিল্লাস? তাতেই তো আমি বাধ্য হই বাইরের লোকটাকে শেষ করে দিতে।মগজ স্থায়ীভাবে নষ্ট করে দিতে। আজ যেমন একটা বাচ্চাছেলেকে এরকম করতে বাধ্য হলাম।”

খাচার লোকগুলো গুমড়ে উঠল।

লোকটা বলল,,”তোদের মুক্তি নেই। এক বছরের মধ্যে আমার ওষুধটা বানাতে হবে। সেই ওষুধের স্যাম্পল তোদের উপরে প্রয়োগ করছি আমি। গিনিপিগ, খরগোশ, ইদুরের উপর প্রয়োগ করলে লাভ নেই,,,আমার দরকার মানুষ। জীবিত মানুষ।  ২০ টা মানুষের ৮ টা মরছে। তোদের অবস্থাও ভাল না,,আরো নতুন মানুষ লাগবে,,আমার নতুন নতুন স্যাম্পলের জন্য।”

মৃতপ্রায় লোকগুলো গুমড়ে উঠল। লোকটা বলে চলল,,”কাঁদিস কেন? তোদের চাকরি এটা। আমি তোদের মত অনভিজ্ঞ বেকারদের এক লাখ টাকার চাকরির যখন অফার করেছিলাম,তখন তো লাফাচ্ছিলি। অনভিজ্ঞ বেকারদের এক লাখ টাকার বেতন এর কাজ,,মনে কি একটু সন্দেহ হয় নি?”

“তোদের টাকার লোভ দিয়ে খুব সহজে ফাঁদে ফেলা যায়। তোদের লোভ দেখিয়ে চাকরি দেবার ছল করে এখানে এনেছি। শুধুমাত্র আমার এক্সপেরিমেন্ট এর জন্য।”

“তোরা ছাড়া তো এই বাসায় কেউ আসে না। আমার গবেষণার পৃষ্ঠপোষকরা মাঝে মাঝে টাকা আর উপকরণ দিয়ে যায়,বড্ড একা লাগে। তাই কি আর করার,বাধ্য হয়ে তোদের সাথেই গল্প করি,,, একই গল্প গত ৩ বছর ধরে প্রায় ১০০ লোকের সাথে করেছি। প্রত্যেকজনের লাশ,বাড়ির পিছনে মাটির নিচে আছে।”

“শোন,একটা গোপন সংস্থা আছে। নাম The Lobby। উগ্রবাদী ইহুদিরা চালায়।ওদের জীবনের মূলমন্ত্র হল পৃথিবী থেকে মুসলমান নামধারী সবাইকে নির্মূল করা। এই যে ইরাক যুদ্ধ,আফগান যুদ্ধ,সিরিয়া যুদ্ধ,,,মোট কথা সারা দুনিয়ায় যত মুসলমান  মরেছে এবং মরছে বিভন্ন যুদ্ধে,সেই যুদ্ধ লাগানোর পিছনে ইন্ধনদাতা এই লবি। আমেরিকা,ইংল্যান্ড, রাশিয়া,,সবাই ওদের কথায় উঠেবসে।অমুসলিমদের মধ্যে যারা ওদের কথা শুনতে অস্বীকৃতি জানায়,তাদের দেশের অর্থনৈতিক কাঠামো নিজেদের এজেন্ট দিয়ে ভেঙে দেয়।অভাবে পরে সেই দেশ। যেমন,,গ্রীস,ব্রাজিল,জার্মানি। জার্মানি পরে বাধ্য হয় ওদের কথায় উঠবস করতে,ওরা তখন রাতারাতি ওদের অর্থনীতি স্বাভাবিক করে দেয়।

হঠাৎ ১৪ বছর আগে লবির নজর পড়ে একটু ভিন্ন দিকে। একটা পিশাচসাধকদের গ্রুপের প্রতি। তাদের ভূত প্রেত সাধনার প্রতি কোন আগ্রহ ছিল না লবির। তাদের আগ্রহ ছিল ওদের বিশেষ একটা ক্ষমতার উপর….. 

ওরা ইচ্ছাশক্তি দিয়ে যেকোনো জিনিস ঘটাতে পারত,মানুষ মারতে পারত,চোখের নিমেষে এক জায়গা থেকে আরেকজায়গায় যাওয়া আসা করতে পারত,,,,

লবি এই গোপনীয়তাটা জানার জন্য উঠেপড়ে লাগল। তারা এদের টাকা দিতে লাগল।বিনিময়ের নিয়মিত চেক আপ করতে লাগল এদের শরীর,কি এমন বিশেষত্ব আসে সেই শরীরগুলোর,,,,

তারপর হঠাৎ ওদের মধ্যে একটা গণ্ডগোল হল। ওদের পিশাচপূজারীর দলটা ধ্বংস হয়ে গেল।

ততদিনে লবি ওদের ফিজিওলজি সম্পর্কে ধারণা পেয়ে গিয়েছিল।

তারা আমার উপর দায়িত্ব দিল,এমন একটা প্রসিডিউর বের করা,ওষুধ বের করা,,যাতে মানুষ হুবহু সেই শক্তি গুলো পায়। আমি সফল হলে,সেই ওষুধ দিয়ে তৈরি হবে কিছু সুপার সোলজার। লবির এজেন্টরা হবে ভয়ংকর শক্তিশালী। আর গোপনে লবিকে কাজ করতে হবে না,,প্রকাশ্য যুদ্ধ হবে মুসলমানদের সাথে,,সব মরবে,,সব,,, আর আমি বিজ্ঞানী ড: এরিক পামার,আমাকে ইতিহাসের পাতায় মুসলিমহীন নব্য পৃথিবী গর্বভরে স্মরণ করবে।”

এরিক পামার গুমড়ে ফোপাতে থাকা খাচার ভিতরের এক মাংস পচে গলে পড়া মানুষ এর চোয়াল ধরে ফিসফিস করে বলল,,”কাঁদিস কেন? ৩ বছর ধরে চেষ্টা করছি,,সফল একদিন আমি হবই,,, আমি সফল হলে তোদের মধ্যে কেউ হয়ে যাবি সুপারহিরো,,, ভয়ংকরতম শক্তি তোদের শিরায় শিরায় বইবে,,,,”

গুমড়ে উঠে মানুষটা তখনি মরে গেল।

এরিক পামার হতাশ হয়ে বলল,,”আবার এক লাখ টাকা বেতনের চাকরির বিজ্ঞাপন দিতে হবে।”

৩.

পরেরদিন সারা শরীর অবশ,,মুখ বাকা,লালা ঝরা রেজাকে ভূতের বাড়ির সামনে থেকে উদ্ধার করা হল। সকলের মুখে মুখে ছড়াতে লাগল,,ভূত দেখে ভয় পেয়ে রেজা অসুস্থ হয়ে গিয়েছে।

রেজাদের স্কুলের দুইটা পার্ট,,এক পার্ট অল বয়েজ,আরেক পার্ট অল গার্লস। রেজা বয়েজ পার্টে ক্লাস নাইনে পড়ে। হাসপাতালে নেবার পর ডাক্তাররা সিটি স্কান করে দেখল, রেজার মস্তিস্কের এবড়োখেবড়ো অংশের ম্যাক্সিমাম সমান হয়ে গেছে,ফরে বেশ গুরুত্বপূর্ণ কিছু শরীর চালনার কেন্দ্র অচল হয়ে গেছে,ভাগ্য ভাল নিচের ব্রেইন স্টেমে কিছু হয় নি,হলে ওর শ্বাস আর হৃদয়ও বন্ধ হয়ে যেত।

তবে রেজার বাবা মাকে জানিয়ে দেওয়া হল,ছেলে সারাজীবনই এমনই থাকবে।

এটা জানার পর পুরো স্কুলের ছেলে মেয়েরা রেজাকে দেখতে গেল। অনন্যাও ক্লাস নাইনে পড়ে,কিন্তু ওর পালক বাবা হাফেজ নবীন ওকে স্ট্রিক্টলি আদেশ দিয়েছে,ছেলেদের দিক তাকান যাবে না,কথা বলাও যাবে না,মেশাও যাবে না,,, বড় হচ্ছ এখন,,,অনেক কিছু মেনে চলতে হবে।

অনন্যার পূর্ণিমার চাদের আলোর মত রূপ সে নেকাব দিয়ে ঢেকে রাখে, তাও বাইরে দাঁড়ানো ছেলেরা কখনো নেকাবের উপর থেকে বেরোনো তার চোখ দুটো দেখলেই মায়ায় হারিয়ে যায়। কিশোর বয়সের প্রথম প্রেমে পড়ে।

এখন এত লোক দেখতে গেল রেজাকে। কিন্তু নবীন মানা করায় অনন্যা গেল না। একদিন অনন্যাকে পিক করতে স্কুলে আসার সময় নবীনকে অনন্যার এক স্যার বলল,,”ক্লাস নাইনের এক ছেলে চিরদিনের মত অচল হয়ে গেছে। হাসপাতালে এখনো আছে,আমরা সবাই দেখতে গেলাম,আপনার মেয়ে গেল না,বলল,আপনি নাক মানা করেছেন,এটা কিন্তু খারাপ দেখায়।”

নবীন অনন্যার দিক তাকিয়ে বলল,,”আমি কি তোমাকে যেতে মানা করেছি? আম ছেলেদের সাথে মিশতে মানা করেছি,অসুস্থ কোন মানুষকে সহমর্মিতা জানাতে নিষেধ করি নি।”

অনন্যা লজ্জা পেল। নবীন স্যারকে বলল,,”আমি নিজে অনন্যাকে নিয়ে যাচ্ছি। কোন হাসপাতালে আছে বলেন।”

এদিকে হাসপাতালের নামাজ রুমে রেজার মার চোখের পানিতে জায়নামাজ ভিজে গেছে,জায়নামাজ এর গায়ে চোখের পানির লবণের দাগ।

রেজার মা বলল,,”আল্লাহ,আমার ছেলেটাকে সুস্থ করে দাও। ও তো বাচ্চা ছেলে আল্লাহ, নিষ্পাপ, কেন এত কষ্ট দিচ্ছ? তুমি তো কত অলৌকিক ঘটনা দেখাও,,এবার কি পারো না দেখাতে?”

নবীন তখন অনন্যাকে নিয়ে হাসপাতালে ঢুকছে,অনন্যার ছোট মুখের টানা টানা চোখ অবাক হয়ে আশেপাশে দেখছে,,এখনো তার মুখটা নেকাবে ঢাকা।

হাসপাতালের এক জায়গায় বড় একটা মানুষের মস্তিষ্ক এর ছবি।অনন্যা অবাক হয়ে ওটার দিকে তাকিয়ে রইল।একটু বড় নবীন ওকে নিয়ে রেজার রুমে গেল।

রেজার বাবা রেজার বিছানার পাশে বসা।রেজার মুখে ভাবলেশহীন দৃষ্টি, মুখ থেকে লালা ঝরছে,,চোখ থেকে পানি। ওর বাবা একটু পরপর উঠে ওগুলো মুছিয়ে দিচ্ছে।

অনন্যা অবাক হয়ে চেয়ে রইল রেজার দিকে। ছেলেটা অনেক সুন্দর। ওর কিশোরী হৃদয়টা জোরে জোরে বাজতে লাগল।

হঠাৎ হয়ত কিশোরী হরমোনের প্রভাবেই,অথবা অতিরিক্ত হার্টবিটের কারণেই,অনন্যার চোখে সাদা নীলচে আলো ঝিকমিক করে উঠল।

অনন্যার চোখে রেজার ঠিক মাথার ভিতরে মগজটার একটা ছবি ভেসে উঠল। সে কি? এটা তো বাইরে দেখা মানব মস্তিষ্ক এর মত না।

অনন্যার চোখ আবার জ্বলে উঠল, এদিকে নবীন রেজার বাবার কাধে হাত দিয়ে কথা বলতেছে,কেউই খেয়াল করল না।

অনন্যা হঠাৎ ভাবল,এই মগজটা এমন কেন? বাইরের ছবির ওটার মত কেন না? এটাকে কি ওরকম করা যায় না?

আস্তে আস্তে রেজার সমান হয়ে যাওয়া মগজটা নিখুত শিল্পের মত বাইরের ছবিটার মগজের মত হতে লাগল। কিশোরীর ডিজাইন অনুযায়ী।  একদম হুবহু দেখা সেই বাস্তব মস্তিষ্ক এর ছবিটার মত,,,,,

পুরোটা হয়ে যেতেই রেজার মুখ স্বাভাবিক হয়ে গেল,তারপিরেই সে দেখল অনন্যার চোখে নীলচে আলোটা আস্তে আস্তে নিভছে,,নেকাব টা খুলে গেছে,,, রেজা “বাবা” বলে একটা চিৎকার করে উঠল।

ভয়ে অনন্যার চোখ আবার জ্বলে উঠল,নবীন ফিরে তাকাল। আশেপাশের পালস অক্সিমিটার,ইসিসি মেশিন,এসি,বালব ঠাস করে ফেটে রুমটা অন্ধকার হয়ে গেল। রেজা এক লাফে বিছানা ছেড়ে নামল,,সটান দাঁড়িয়ে চেচাতে লাগল,,”বাবা,,মা!!!!”

উপর থেকে নামাজরতা রেজার মা দৌড়ে নিচে নামল,হাসপাতালের সব ডাক্তাররা ছুটে এল। নবীন অনন্যার হাত ধরে অতি দ্রুত হাসপাতাল ত্যাগ করল।

বাসায় এসে অনন্যাকে শাস্তি দেওয়া হল,, তাকে কান ধরে দাঁড়িয়ে আধাঘণ্টা ধরে জপতে বলা হল,,”বাবার মত ভুল করব না,আর এভাবে আমার ক্ষমতা দেখাব না। আমার অনেক শত্রু আছে। আমাকে পেলে মেরে ফেলবে।”

৪. 

নবীন একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়নের লেকচারার হিসেবে ঢুকেছিল।প্রায় ৩৭ বছর হয়ে গেছে তার। বি সি এস করা ভাল চরিত্রের লোক। এখনো বিয়ে করে নি।।না করার কারণ আছে। অনন্যাকে হয়ত সে মানা করে নিজেকে বাবা ডাকতে,এটা করে সে আহাদ আহমেদের উপর সম্মান রেখে। কিন্তু বাইরে সবখানে সে বলে বেড়ায়,”আমার একটা মেয়ে আছে,নাম অনন্যা।”

বিয়ে করতে গেলে,পাত্রীপক্ষকে বলে,,”আমার একটা মেয়ে আছে।”  কাউকেই বলে না এটা পালক মেয়ে,,পালক মেয়ে বললে হয়ত একবারে বিয়ে হবে নবীনের, কিন্তু অনন্যার আর থাকা হবে না।অনেকে নবীন হাফেজ,হ্যান্ডসাম,আর সরকারী বিশ্ববিদ্যালয় এর চাকুরে বলে মেয়ে দিতে একপায়ে খাড়া,অনন্যার কথা জেনেও,তবে নবীন বোঝে,,এরা অনন্যাকে কষ্ট দিবে ভবিষ্যৎ এ। নবীন তাই খুজে বেড়ায়,এমন মেয়ে পেলেই বিয়ে করবে,যে অনন্যাকেও ভালবাসবে।

নবীন হুজুর মানুষ,মেয়েদের দিকে তাকায় না। তবে নবীনের এক তরুণী কলিগ তার উপর ক্রাশ খাওয়া। অনন্যা প্রায়ই নবীনের বিশ্ববিদ্যালয়ে যায়। সেই তরুণী কলিগ,নাম জিনাত,,, সে জানে যে অনন্যাকে নবীন কতটা ভালবাসে। সে অনন্যার সাথেই খাতির জমায়।

অনন্যাও জিনাতকে অনেক পছন্দ করে। জিনাত মাঝে মাঝে বাসায় এসেও অনন্যার সাথে কথা বলে,গল্প করে,পড়া বুঝিয়ে দেয়। অনন্যা সবই বোঝে,কেন মূলত জিনাত এই বাসায় আসে,,কিন্তু নবীন পাত্তাই দেয় না। অনন্যা জানে নবীন এতদিন বিয়ে করে নি তার জন্যই। অনন্যা তাই নিজ দায়িত্বে নবীন আর জিনাতের বিয়ের ব্যবস্থা করে।

এবং অবশ্যই তার আশ্চর্য মস্তিষ্ক নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দিয়েই।

ফলে নবীন আর জিনাতের বিয়ের পর নবীন অনন্যাকে আবার কান ধরে জপতে বলে,,”আর জীবনেও আমার শক্তি দেখাব না,, আমার শত্রুরা আমাকে খুজে পাবে,মেরে ফেলবে,,,”

নবীনের বিয়ের কয়েকসপ্তাহ পর হঠাৎ মানববন্ধন হয়,,”মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা চাকরি পাচ্ছে না কেন?” এই টাইটেলে। তারা শ্লোগান দেয়,আমাদের দাদারা যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করছে,, আমরা যতই জি পি এ টু পাই না কেন,, সরকারের উচিৎ আমাদেরকে সরকারি চাকরি দেওয়া। বইলে কঠোর আন্দোলন হবে।

এই দাবিতে পুরো বাংলাদেশ সোচ্চার হলে,বাধ্য হয়ে সরকার বি সি এস করে আসা সরকারি চাকুরে,গেজেটেড অফিসারদের চাকরি থেকে ছাটাই শুরু করে,আর বীর মুক্তিযোদ্ধা দের জি পি এ টু পাওয়া মেধাবী সন্তানরা সরকারি চাকরিতে ঢুকতে থাকে,,এই ছাটাই সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতেও চলে। নবীন আর জিনাত দুইজনের চাকরি ই চলে যায়।

তবে পুরনো বি সি এস দেওয়া রাজনৈতিক নেতাদের চাকরি ছাটাই হয় নি।

একে বিয়েতে টাকা খরচ। আবার জিনাতের বাবার একটা অপারেশনের দরকার হয়,সেখানে নবীন,জিনাত দুইজনেই প্রচুর টাকা খরচ করে। এখন এই মুহুর্তে মোটামুটি স্থায়ী চাকরি এভাবে চলে গেলে দুইজনেই বজ্রাহতের মত চেয়ে থাকে।

প্রথম দুই তিনমাস বেশি একটা কষ্ট হয় না। এর পরেই তিনজনের পরিবারটা অভাবে পড়ে,আগের দামী বাসাটা ছেড়ে দিয়ে একটা টিনশেড বাসায় থাকতে হয়।

নবীন পাগলের মত আশেপাশে চাকরি খুজতে থাকে। তবে এ যুগে দাড়ি টুপিওয়ালারা যতই যোগ্য হোক,তারা আবার যুদ্ধাপরাধী হতে পারে ভেবে নবীন কোথাও চাকরি পায় না। জিনাতও চাকরি খুজতে থাকে,কিন্তু বিয়ের পর নবীন তাকে বোরখা পরার নির্দেশ দেয়ায়,বোরখা পরেই ছুটাছুটি করে সে,,, কিন্তু বোরকাওয়ালীরা নাকি পড়াশুনা যাতে না, জ্ঞানী চাকরিদাতারা তাই বিসি এস করা জিনাতকে অ আ ক খ না পারায় চাকরি হবে না বলে তাড়িয়ে দেয়।

এরকম যখন সিচুয়েশন।তখন একদিন এক ইংরেজি পত্রিকায় নবীন একটা বিজ্ঞাপন দেখে,, চাকরির বিজ্ঞাপন, বেতন এক লাখ টাকা।বিশেষ কিছু লেখা নেই,যোগাযোগ করলেই বিস্তারিত বলা হবে।

জিনাতও দেখে ফেলে বিজ্ঞাপন টা। দুইজনই বলাবলি করে,”যা হবার ভালোর জন্যই হয়। এখন আমরা অনেক বেশি টাকার একটা চাকরি পেতে পারি। যা রিকুয়ারমেন্ট চাইছে,আমরা এর চেয়ে অনেক বেশি যোগ্য।”

নবীন আর জিনাত ধানমন্ডির একটা পুরনো বাড়ির ঠিকানা দেখে রওনা দিল। তারা জানত না,এটাকে মানুষ ভূতের বাড়ি বলে,,, রাত বিরেতে নাকি এটা থেকে মানুষের গুমড়ে উঠা কান্নার আওয়াজ শোনা যায়……

৫.

এরিক পামার তার ল্যাবরেটির দিক চেয়ে আছে। বিশটা খাচা পুরো ফাকা। মানুষের লাশ নামিয়ে নিচ্ছে লবির এজেন্টরা। বাড়ির পিছনে লাশগুলোকে মাটি চাপা দিতে হবে,আর ল্যাবরেটরির গন্ধটাও দূর করতে হবে।

বিজ্ঞানীর পাশে কাল চশমা পরা একটা লোক দাড়ালো। বলল,,”তোমার কাজে আমরা মোটেও খুশি না এরিক। ৩ বছর আমাদের টাকা নিয়েছ তুমি। যখন যা চেয়েছ,দিয়েছি।কিন্তু বিনিময়ে আমরা বিকৃত, পচা গলা কয়েকটা লাশই পেয়েছি। এভাবে আর চলতে দেওয়া যায় না।”

এরিক বলল,,”একটু সময় দাও প্লিজ। এটা বাংলাদেশ,মানুষ কোন ব্যাপার না এখানে।এজন্যই তো ঘাটি গেড়েছি। কেউ নিখোঁজ হলেও কেউ পাত্তা দেয় না। দরকার হলে আমরা আরো মানুষ আনব,,কাজের গতি আরো বাড়াব। আমি একটু উন্নতি দেখছি,,শেষের মানুষগুলো ৪৪০ ভোল্টের শক ২০ মিনিট ধরে খেয়েও বেচে ছিল। ”

লোকটা বলল,,”এত সময় দেয়া যায় না এরিক। সেরকম ফিজিওলজি তৈরি করা হচ্ছে না। তোমাকে তো আমরা রিপোর্ট দিয়েছিলাম”

এরিক বলল,,”আমি একটা যন্ত্র আবিষ্কার করেছি। তোমরা যেরকম চাও,আমার ল্যাবে ওরকম মানুষের ট্রেস পাবে যন্ত্রটা,যন্ত্রটা থেকে বুঝব,আমার এক্সপেরিমেন্ট সফল কিনা।”

লোকটা বলল,,”তো যন্ত্রটা কি বলে এরিক?”

এরিক মাথা নিচু করে রইল।

“এইটাই তোমার লাস্ট ব্যাচ এরিক। এটায় ব্যর্থ হল,তোমার থেকে মুখ ফিরিয়ে দেব আমরা।আর আমাদের অনেক কিছুই জেনে ফেলেছ তুমি। এবার আর বাঁচবে না। মেরে ফেলব তোমাকে।”

এরিকের অন্তরাত্মা কেপে উঠল।

এর মধ্যে বাইরের ক্যামেরায় একটা লোক, আরেকটা মহিলাকে দেখা গেল। কাল চশমা লোকটা বলল,,”শেষ ব্যাচের প্রথম শিকার এসে গেছে এরিক।”

নবীন আর জিনাতকে বাড়ির ভিতরে ঢুকানো হল। জিনাতের কেন যেন অশুভ লাগল বাড়িটা।চারদিকে কেমন যেন মৃত্যু ঘুরপাক খাচ্ছে।

নবীন আর জিনাত হলরুমে প্রবেশ করল। সাথে সাথে ল্যাবরেটরিতে থাকা এরিকের সুপার হিউম্যান নির্দেশক যন্ত্রটা সিগন্যাল দিতে লাগল।

লোকটা আর এরিক চোখ বড় করে তাকাল পরস্পরের দিকে। লোকটা বলল,,”এদের দুইজনের একজন হয়ত প্রকৃতিগত ভাবেই ওই ফিজিওলজি নিয়ে জন্মানো। আহাদ আহমেদ এর মত।”

এরিক বলল,,”শিওর হতে হবে,,,”

লোকটা একটা লেজার গান বের করল।বলল,,”যাদের ওই শক্তি আছে,এই লেজার ওদের গায়ে লাহলে কিছুই হয় না।”

সে জিনাতের দিকে ওটা তাক করে গুলি করল,,লেজার জিনাতের গায়ে লাগতেই,ওর শরীরটা গলে গেল। রক্ত ছিটকে উঠল।নবীন আর্তনাদ করে উঠল।

লোকটা বলল,,”তারমানে এই লোকটাই সেরকম,,,এ কিছু করার আগেই একে নিউট্রালাইজ কর।”

বাগান থেকে সেই বড় গান টা উঠে দাড়াল,কাঁদতে থাকা নবীনের মাথায় লাগল,, নবীন রেজার মত ওরকম অচল হয়ে গেল না। তবে অজ্ঞান হয়ে গেল।

জ্ঞান ফিরতেই দেখল নবীন খাচার ভিতরে।তার গায়ে কোন কাপড় নেই। তার খাচার আশেপাশে প্রায় ২০ জন লোক তার দিক তাকিয়ে আছে।

এরিক বলল,,”আহাদ আহমেদের মত এও প্রাকৃতিক?? ”

লোকটা বলল,,”আমার কেমন জানি সন্দেহ হচ্ছে। কিছু একটা মিলছে না।”

এরিক বলল,,”কি?”

লোকটা বলল,,”জানি না,,তবে মনে হচ্ছে এই লোকের কাছে সেই শক্তি নেই।তবে এমনো হতে পারে সে নিজেই জানে না এই শক্তির কথা। আমি শুনেছি আহাদও এটা জানত না,পরে অনেক স্ট্রেসের ভিতর তার শক্তি প্রথম প্রকাশ পায়।”

এরিক বলল,,”থাক,,কয়েকদিন গবেষণা করলেই বুঝব। তবে প্লান চেঞ্জ,আমার সম্পূর্ণ কোন ওষুধ তৈরি করতে হবে না। আমার তৈরি আগের স্যাম্পলে আমি এর শরীর থেকে পাওয়া অংশ মিলাব,,, লবির ধারণার বাইরে শক্তিশালী মানুষ তৈরি হবে।”

খাচার ভিতর থাকা নবীন “The Lobby” এর কথা শুনেই ভয়ার্তভাবে তাকাল। খুবই চেনা তার এই সংগঠন,খুব বেশি চেনা।

৬.

এক সপ্তাহ হয়ে গেল নবীন জিনাত বাসায় ফেরে না। অনন্যা চিন্তায় অস্থির। কোথায় কোথায় যেতে পারে সে খুজে এসেছে।জিনাত আর নবীনের পরিবার পুলিশে খবর দিয়েছে।পুলিশ দেখব বলে,টিভি দেখে ফেলেছে। কেউ আর উদ্ধার হচ্ছে না।

আহাদের ছোটভাই,যে প্রায়ই নবীনের বাসায় আসত ভাতিজিকে দেখতে। সে অনন্যাকে নিয়ে গেল। আহাদের বাবা মা নিজের নাতনির সাথে দুর্ব্যবহার করল। তাদের ধারণা এই মেয়ে আহাদের না। বাসার দারোয়ানের। 

অনন্যা সারাদিনরাত কাদে।তবে তার কাধে হাত রেখে চোখের পানি কেউ মুছে দেয় না। নবীনের কোন খোজ নেই।

এদিকে এক সপ্তাহ ধরে অনন্যা স্কুলে যায় না। রেজার একটা অভ্যাস হয়ে গেছিল,স্কুল ছুটির পর মেয়েদের বের হবার জায়গার দিক লুকিয়ে তাকিয়ে থাকার,অনন্যাকে একবার দেখার জন্য।

সাতদিন ধরে অনন্যাকে খুজে না পেয়ে সাইকেল চালিয়ে সে ঘুরে ঘুরে নবীনদের টিনশেড বাসায় যায়। ওখানের বাড়িওয়ালা বলে নবীন নিখোঁজ, অনন্যাকে তার চাচা নিয়ে গেছে তার দাদাবাড়ি।

রেজা সাইকেল চালিয়ে দাদাবাড়ি গিয়ে অনন্যার খোজ নেয়। অনন্যাকে একটা ছেলে খুজছে বলে অনন্যার দাদী অনন্যা আর তার মায়ের চরিত্র একবারে ধুয়ে দেয়। রেজা লজ্জিত হয়ে চলে আসে,কিন্তু জানালায় কান্নারত দুইটা লাল উৎসুক চোখ সে দেখতে পায়।

রেজা আর যায় না। একটু অন্ধকার হইলে রেজা জানালার কাছে যায়। জানালা টোকা দিতেই অনন্যা খোলে,এই প্রথম অনন্যাকে সে বোরখা ছাড়া দেখে।শুধু চোখ না,চোখের মালকিনের চেহারাটাও দেখে। তার কিশোর হৃদয়ে ঝড় ওঠে।

এদিকে অনন্যার কেন জানি রেজাকে দেখে মন একটু হালকা হয়। রেজা ওকে বলে,,”চিন্তা কর না,,আংকেল এসে যাবে বাসায়।”

অনন্যা কেদে দেয়। ওরা অনেকক্ষণ গল্প করে,তারপর রেজা চলে যায়।

এভাবে আরো দুইদিন রাতে জানালা ধরে কথা বলার পর একরাতে রেজাকে চোর ভেবে অনন্যার দাদী বটি নিয়ে তাড়া করায় অনন্যা সিদ্ধান্ত নেয় পরেরদিন থেলে স্কুলে যাবে।

স্কুলে গেল পরেরদিন। ছুটির পর বাওরে রেজাকে দেখে কিছুক্ষণ হাটল। রেজা জিজ্ঞেস করল,”আচ্ছা,আংকেল হঠাৎ কোথায় যেতে পারে? আন্টিও সাথে করে?তোমাকে বলে গেছে?”

অনন্যা বলল,,”আমি জানি না,,তারা চাকরি হারানোর পর সারাদিন চাকরি খুজত।হয়ত চাকরি খুজতেই গেছে।”

রেজা বলল,,”এই চাকরির খোজে তারা কি পত্রিকার বিজ্ঞাপন দেখে যেত?”

অনন্যা বলল,,”হ্যা হ্যা”

রেজা বলল,,”চল তো,,তারা যে পেপার পড়ত,সেই পেপারটা তাদের নিখোজ হবার এক সপ্তাহ আগে থেকে আনা প্রত্যেকটা কপির বিজ্ঞাপনগুলো পড়ে দেখি।”

ওরা পত্রিকার কপি কালেক্ট করল। পত্রিকারর বিজ্ঞাপন দেখল। অনন্যা বেশ কয়টা চিনল।রেজাকে বলতে লাগল,,”হ্যা হ্যা,,এখানে গিয়েছিল তারা,,চাকরি হয় নি, ফিরে এসেছিল,,তারপর আলোচনা করেছিল।”

রেজা এরকম পেপার ঘাটতে ঘাটতে নিখোজের একদিন আগের একটা বিজ্ঞাপন দেখল। দেখেই তার গলা শুকিয়ে গেল,, এক লাখ টাকা বেতনের বিজ্ঞাপন।  ঠিকানাটা খুবই মারাত্মকভাবে পরিচিত।

সে তার অসুস্থ হবাত কাহিনীটা অনন্যাকে বলল,,এও বলল,,”এই ঠিকানায় তো কোন মানুষ থাকে না। সবাই বলে এটা ভূতের বাড়ি।কিন্তু আমি এতে ভিডিও ক্যামেরা আর স্পিকার দেখেছি। আর কিছু মানুষের চিৎকার শুনেছি।”

অনন্যা আর রেজা নিশ্চিত হয়ে গেল সেই চিৎকার করা মানুষ দের কাতারে আছে নবীন আর জিনাত।

অনন্যা আর রেজা পুলিশের কাছে গেল। কিশোর বলে পাত্তা দিল না কেউ। আহাদের ছোটভাই,রেজার বাবা মা,এদের যখন আনল,পুলিশ শুনল পুরো ব্যাপারটা। কিন্তু উপরের নির্দেশ আছে,, রহস্যময় কোন ক্ষমতাশালী লোক,ওই ভূতের বাড়ির দিকে পুলিশ যাক,তা চায় না। তাই পুলিশ বলল,,”আচ্ছা,আমরা দেখব নে।”   এটা বলে তারা কথা রাখতে মোবাইলে পর্ন দেখল।

অনন্যা আর রেজা অসহায় হয়ে পড়ল। অনন্যা জেদ ধরে বসল। সে যাবেই তার পালক বাবাকে উদ্ধার করতে,সে সিওর ওখানেই আছে নবীন।

রেজা অনন্যার প্রতিজ্ঞা দেখে ভয় পেয়ে গেল। তার সেই নীলচে আলো চোখের ঝলকানি দেখা গেল।

৭.

এরিক পামার নবীনের উপর এক্সপেরিমেন্ট করে বুঝল,নবীনের কোন শক্তি নেই,, কিন্তু দীর্ঘসময় এরকম কোনো প্রচন্ড শক্তির আশেপাশে থাকায়,আর শরীর থেকে সেই শক্তিটা সামান্য প্রতিফলন হচ্ছে।

এরিক একটা প্লান করল। অনেক দিন শক্তি বিকিরণের কাছে থাকায় নবীনের শরীরে যতটুকু শক্তি এসেছে,সেটা সে এক্সট্রাক্ট করে লবিকে দেবে। আর নিজে নবীনকে অত্যাচার করে সেই শক্তির উৎসটা খুজবে,মানে সেই প্রাকৃতিকভাবে শক্তিশালী মানুষটাকে,যার সাথে নবীন এতদিন ছিল। লবি এরিককে এমনিও খুন করবে,সেটা সেদিন এর হুমকিতেই বুঝেছে। এরিক তাই লবিকে বুঝাবে যে নবীনই আসল শক্তির ধারক,তার রক্ত থেকে পাওয়া স্যাম্পল দেবে ওদের। আর নিজে আসল শক্তিটাকে লোকেট করে তার থেকে এক্সট্রাক্ট করে বানাবে আরো শক্তিশালী স্যাম্পল।সেটা সে নিজের শরীরে নেবে। লবি আসুক তাকে খুন করতে,,দেখিয়ে দেবে।

এখন নবীনকে প্রচন্ড অত্যাচার করল সে। শক দিল,আঙুল কেটে দিল। নখ উপড়ে দিল। বল্পল,,”তুই নিশ্চয়ই ওরকম কোন শক্তির আশেপাশে ছিলি,,আমি জানি।  তুই আমাকে সেই শক্তির সন্ধান দিবি। আমি জানি সে আছে। আমি তার কাছ থেকে শক্তি নেব।”

নবীন এরিকের মুখে থু দিল।

এরিক নবীনের উপর অত্যাচার বাড়িয়ে দিল।

এদিকে নবীনের রক্ত থেকে সিরাম বের করে শক্তি বিকিরণ এর অংশটা নিজস্ব কেমিক্যাল প্রটোটাইপে ঢুকিয়ে এরিক লবির জন্য সুপার সোলজার/এজেন্ট এর ফর্মুলা বানাল।

এখন লবি যে এরিকের ল্যাবের কনায় কোনায় মাইক্রোফোন বসিয়ে রেখেছিল এরিক জানত না। লবি ওর প্লান ধরে ফেলেছিল।  তারাও খোজ নিচ্ছিল সেই শক্তিটার। সেটা মেয়েও হতে পারে,ছেলেও।

এরিক লবির এজেন্টকে ডাকল,কম শক্তির স্যাম্পলটা গছিয়ে দিতে। লবি তো আগেই সব জেনে গেছে। লবির এজেন্টরা এরিককে গুলি করল। নবীনের কাছ থেকে সেই সুপারপাওয়ার ওয়ালা ব্যক্তির সন্ধান চাইল। নবীন এবারো দিল না। এজেন্টরা নবীনকে নিয়ে যেতে চাইল।আরো অত্যাচার করে তথ্য নিতে।

এদিকে গুলি খাওয়া এরিক সেই লবিকে দেওয়া সিরামটা নিজের শরীরে পুশ করল।

মারাত্মক একটা ভুল,বা মারাত্মক একটা আশাতীত ফল হল। তিন বছর ধরে বানানো ব্যর্থ, মানুষকে বিভিন্নভাবে বিকৃত করা কেমিক্যালকে স্ট্যাবিলাইজ করল নবীনের শরীর দেখে বের হওয়া শক্তি সিরাম।

ফলশ্রুতি তে এরিকের দেহে পচন ধরল না। বরং তার সাইজ বাড়তে লাগল। ৫ ফুট এরিক আস্তে আস্তে ১৫ ফুট লম্বা হয়ে গেল। মাংসপেশি শক্ত,দৃঢ় আর বড় হয়ে গেল।

দাতগুলো চোয়ালের বাইরে চলে এল। হাড়গুলো ইস্পাতকঠিন হয়ে মাংস চিড়ে বেড়োতে লাগল। বিশাল এক দৈত্য হয়ে গেল সে।

লবির এজেন্ট রা গুলি করতে লাগল। আর এরিক ওদেরকে ধরে ধরে আছাড় দিতে লাগল,,কারো শরীর অর্ধেক করে ছিড়ে ফেলল।

 সবাই যখন মরে গেল।নবীনকে ঘাড় ধরে সে উঠাল। বিকট গলায় বলল,,”কই সে শক্তি? আমাকে বল,,না বললে আমি পুরো শহরের সবাইকে মেরে ফেলব। যে আমাকে বাধা দেবে,বুঝব সেই তেমন শক্তির ধারক। কিন্তু তাকে পাবার আগে এতগুলো মানুষের মৃত্যুর কারণ হবি তুই।”

নবীন বিকৃত মুখে বলল,,”জাহান্নামে যা,শয়তান।”

এরিক নবীন কে দেয়ালে ছুড়ে মারল। তারপর ছাদ ভেঙে বিশাল একটা লাফ দিয়ে দূরবর্তী বিল্ডিং এর মাথায় উঠল,সেখান থেকে নামল মেইন রোডে,রাস্তা ভেঙে টুকরা উচু হয়ে গেল। যানবাহন গুলো মানুষ সহ ছিটকে পড়তে লাগল। মানুষ আর্তনাদ করে ছুটোছুটি করতে লাগল।

এদিকে ওই বাড়ি থেকে একটা দৈত্যকে বের হতে দেখল সাইকেলে থাকা রেজা,,আর পিছে ক্যারিয়ার এ থাকা অনন্যা।

অনন্যা হা করে দানবটাকে চেয়ে দেখল।

অনন্যা বাবা বলে চিৎকার দিল। গেটটা উপড়ে পরে ছিটকে গেল। ওরা ভিতরে  দৌড়াতে লাগল। নবীন তখনো বেচে ছিল,মেরুদণ্ড ভাঙা অবস্থায় ক্রল করতে করতে দরজার দিক আসল। অনন্যা আর্তনাদ করে উঠল ওই অবস্থা দেখে,,”বাবা,বাবা ” বলে চিল্লাতে লাগল।

হঠাৎ অলরেডি ছাদ ভাঙা বাড়ি। আর দৈত্যটার ধ্বংস করা ল্যাবের আগুনে পুরো বিল্ডিং ধ্বসে পড়ল,অনন্যার চোখের সামনে নবীনের মাথার উপর পুরো ছাদ ধ্বসে পড়ল।

অনন্যা চিৎকার দিয়ে বসে পড়ল। রেজা ওকে জড়িয়ে রাখল। হাউমাউ করে কাদতে লাগল অনন্যা।

হঠাৎ মাটির নিচে থাকা জেনারেটর এ আগুন লেগে গেল,বিস্ফোরণ হল। মাটি ধ্বসে পড়তে লাগল। রেজা টানতে টানতে অনন্যাকে ওর সাইকেলে বসালো। সাইকেলে পেডাল দিতে লাগল জোরে জোরে,,পিছে মাটি ধ্বসে পড়ল,,গলির রাস্তা ধ্বসতে লাগল,,, পাশের দেয়াল গুলো সাইকেলের পিছে পিছে পড়তে লাগল।সাইকেলের গতি কমলেই নিশ্চিত মরণ,,,,,

গলির একদম মাথা এসে বুঝল রেজা, সাইকেল আর যেতে পারবে না,,পিছের চাকা ধ্বসের ভিতর ঢুকে গেল,সামনের চাকা উচু হয়ে গেল। অনন্যাকে নিয়ে সে বিশাল একটা লাফ নিয়ে মেইন রোডের কোণায় পড়ল।

মেইন রোডে তখন কিয়ামত চলছে,,রাস্তা থেকে গাড়ি দুইহাতে ধরে পাশের বিল্ডিং এ ছুড়ে মারতে লাগল। মানুষ পিপড়ার মত ছুটতে লাগল।

রেজা তার পাশে একটা ছুড়ে মারা ভেঙে পড়া বাস দেখল।অনন্যাকে নিয়ে বাসটায় লুকাল।

দানবটা রাস্তায় ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে এদিকেই আসতে লাগল। একটা চলন্ত বাসকে ধরে ফেলল। ভিতরের মানুষ আর্তনাদ করে উঠল।

রেজা হঠাৎ দেখল,,দানবের হাত থেকে বাসটা ছুটে ধীরে ধীরে উপরে উঠছ্র,,দরজা জানালা ভেঙে পড়ছে,ভিতরের মানুষ গুলো আস্তে আস্তে হাওয়ায় ভাসতে ভাসতে আশেপাশের বিল্ডিং এর বারান্দায় এসে পড়ল।

এই ভয়ের মাঝেও প্রত্যেকটা ছুটন্ত মানুষ থেমে গিয়ে কান্ডটা দেখতে লাগল। দানবটা অবাক হয়ে বাসটাকে দেখতে লাগল,,আস্তে আস্তে সেটা উপরে উঠছে।

রেজা বলল,,”অনন্যা,,অনন্যা,,দেখ।”

এই বলে অনন্যার দিক ফিরতেই ভয়ে রেজা ৫ হাত দূরে ছিটকে পড়ল।

অনন্যা বাসের পিছের সিটের ৩ হাত উপরে ভাসছে,, তার চোখে পানি,,,সুন্দর মুখটা প্রচন্ড রাগে বিকৃত। চোখটা সাদাটে নীল আলোয় জ্বলছে,,, আলোটা আস্তে আস্তে সারা বাসে ঠিকরে পড়ছে,,রেজা চোখ ঢাকল।

বাসটা থেমে গেল মধ্য আকাশে। ভাসছে ওটা,,ঠিক এরিকের মাথার উপর।

এক সেকেন্ডের কম সময়ে প্রচন্ড বেগে বাসটা আছড়ে পড়ল এরিকের মাথায়। এরিকের পনেরো ফুটের ইস্পাত কঠিন দেহ থেতলে গেল।বাসটা আবার উপরে উঠল,,আবার এরিকের উপর পড়ল,,যেন একটা বিশাল অদৃশ্যহাত বাসটাকে হাতে করে এরিককে হামানদিস্তার মত করে পিষতেছে।

বাসটা ততক্ষণই এভাবে উপরে উঠল,আর নিচে নামল,,যতক্ষণ পর্যন্ত এরিকের দেহটা ভর্তা না হয়ে গেল,,মাংসপিণ্ড না হয়ে গেল,,আকার আকৃতি বোঝার অবস্থায় না থাকল,,,, এরপর ভাঙাচোরা বাসটা রাস্তার পাশে পড়ে রইল।

রেজা দেখল অনন্যা দড়াম করে বাসের মেঝেতে পড়ে রইল।তার নাকমুখ দিয়ে গলগল করে রক্ত পড়ছে।

এরকম অবিশ্বাস্য একটা ঘটনা দেখার পর ধানমন্ডির লোকেরা আরেকটা আজব ঘটনা ঘটতে দেখল,, একটা কিশোর ছেলে একটা কিশোরী মেয়ের অজ্ঞান দেহ কাধে নিয়ে অনেক কষ্টে দৌড়াচ্ছে,, আর চিৎকার করছে,,”প্লিজ কেউ অনন্যাকে বাঁচান,,প্লিজ হাসপাতালে নিতে হবে ওকে।”

কিশোরী মেয়েটার নাক থেকে ফোটা ফোটা রক্তে ছেলেটার জামা ভিজে যাচ্ছে,,,,,,,,  

(পরবর্তী গল্প Dimension Origins:Part 3 তে Dimension এর অরিজিন স্টোরি সমাপ্ত হবে)

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s